Wednesday , August 5 2020
Home / বাংলাদেশর খবর / চুপি_চুপি_ইচ্ছেরা | পর্ব_১
চুপি_চুপি_ইচ্ছেরা পর্ব_১

চুপি_চুপি_ইচ্ছেরা | পর্ব_১

পাঁচটা বেজে দু’মিনিট।

হালকা কুঁয়াশা আর অন্ধকারের আবছা ছায়ায় মাখামাখি পরিবেশ।মেঘের আড়ালে ধীরে ধীরে লাল আভা প্রকাশ পাচ্ছে।
টিপটিপ পায়ে দৌড়ে ছাদে চলে এলো তিতির।ছাদের মেঝেতে পা রাখার সাথে সাথে মনে হলো সারা শরীরে একটা ঝাকুনি খেয়ে গেলো।শিহরণে কেঁপে ওঠলো ওর শরীর।
এক ঝাপটা মিষ্টি বাতাস ছুঁয়ে গেল তিতিরের হাত,মুখ,চোখ,ঠোঁট,সব।অজান্তেই ঠোঁট জোড়া কেঁপে ওঠলো ওর।
একটা সর্ট ফ্রগ পড়া তিতির।চুলগুলো অবিন্যস্তভাবে পড়ে আছে ঘাড়-কাধে।লেপ্ট আছে গলার সাথে।ঢিপঢিপ পায়ে হেটে ছাদের রেলিং এর ধার ঘেঁষে দাড়িয়েছে ও।ঘুমন্ত-মায়াপরী লাগছে ওকে।যে কাউকে পাগল করার জন্য এ মুহূর্তে এটাই যথেষ্ট।
প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যেই হাত-পা মুড়িয়ে দাড়িয়ে আছে তিতির।রোজ করে এমনটা।ভালোলাগে খুব।একদম অন্যরকম একটা অনুভূতি।খুব ফ্রেশ ফ্রেশ লাগে নিজেকে।
তবে আজ এখানটাতে বেশি ভালোলাগে তিতিরের।মামার কাছে চিটাগাং ক্যান্টেরমেন্টে এসছে দু’দিন হলো।এখানে আসলে যেনো নিজেকে একটু মুক্ত মুক্ত লাগে।পেরা দেয়ার কেউ নেই।ওর মামা মি. আব্রাহীম ইবনাত এখানে বিমানবাহিনীতে আছে।Air Commodre পদে।মামি হাউজ ওয়াইফ,আর প্রচন্ড ভালোবাসে তিতিরকে।
মামাতো ভাই নিঝুমের চোখেরমনি।
বাবাকে হারানোর পর জীবন প্রায় থমকে গেছে তিতিরের।খুব……খুব একা একা লাগে ওই বাড়িটাতে ওর।দম ঘুঁটে আসে প্রতিনিয়ত।
মনটা সারাক্ষণ দুরু দুরু করে এখানে এসে সবার আদর খাওয়ার জন্য।
.
সকালের নামাজ আদায় করে কফি হাতে ছাদে চলে এলেন মিসেস শায়লা।ওনার মিষ্টিমনিকে যে এখানে পাওয়া যাবে তা খুব ভালো করে জানেন ওনি।
মিসেস শায়লা তিতিরের আদরের ছোট মামি। তিতিরকে আদর করে মিষ্টিমনি বলেই ডাকেন।
ছাদে এসে মুচকি হেসে তিতিরের এলোপাথারি চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন।এগিয়ে দিলেন কফিমগ। তিতির ঠোঁটে একটা মুচকি হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,
—“উহুম,,এখন খাবো না কফি।ঘুরবো।”
—“এই সাঝঁ সকালে ঘুরতে যাবি মানে?এমনিতেই এই ঠান্ডাতে খালি পায়ে,সোয়েটার ছাড়া এসছিস ছাদে।”
—“না না না।আমি কিচ্ছু জানিনা।এখনি যাবো।এখানে তো অনেক মাঠ।শিশির ভেজা সকালে খালি পায়ে হাটবো সবুজ ঘাসে।শিহরিত হয়ে ওঠবে প্রত্যেকটা শিরা-উপশিরা।মনের মাঝে…………….”
তিতিরকে আটকে দিয়ে মিসেস শায়লা বললেন,
—“বাপরে বাপ।তোদের অত সব কথার মানে-টানে আমি বুঝিনারে বাপ।তুই যা নিঝুমের সাথে যা বাহিরে।ও তো জগিং যাবে এখন।”
তিতির মনে মনে বেশ খুশি হয়ে গেলো এটাই তো চাইছিলো সে।
কাল সকালে জানালা দিয়ে দেখেছিল নিঝুমকে বের হতে।অনেক করে মন চাইছিলো যেতে ওর সাথে।কিন্তু ঘুম এমনভাবে চেপে ধরেছিলো যে খাট থেকে ওঠতেই ইচ্ছা করছিলো না।
তাও একটু ভাব নিয়ে মামানিকে বললো,
—“কেনো কেনো কেনো?
কে নিঝুম যে আমি ওর সাথে যাবো!”
এই কথা শুনে মিসেস শায়লা কান টেনে দিলেন তিতিরের
—“বেশ পাকনি হয়ে গেছিস না!যা এক্ষণি।”
—“আহ মামানি লাগছে তো ছাড়ো ছাড়ো যাচ্ছি তো!”
এক দৌড়ে নিঝুমের রুমে চলে এলো তিতির।ইশঃ কি জোরেই না ধরেছে কানটা ব্যাথা করছে এখনো।
নিঝুমের রুমে এদিক ওদিক চোখ বুলাচ্ছে তিতির।নিঝুম তো নেই!
তাহলে কি চলে গেলো নাকি?ধ্যাত এমন কেন ছেলেটা।কই ভাবলো হাটার বাহানায় ওর সাথে একা একা সময় কাটাবে তা না ছেলেটা তার আগেই উধাও। তিতির মন খারাপ করে রুম থেকে বের হতে যায় তখন হঠাৎ কেউ ওকে এক ঝাপটায় নিয়ে ফেলে দেয়ালের মাঝে।খুব কাছ ঘেঁষে দাড়ায় ওর।ঘটনার আকষ্মিকতায় ভয় পেয়ে যায় তিতির।চোখ দু’টো খিচে বন্ধ করে নেয়।
নিঝুমের পরশ পায় কপালে।শরীর কেঁপে ওঠে ওর।
কেমনে করলো এটা নিঝুম?ওর যে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম…
লজ্জায় দুহাত প্রশস্ত করে মুখ ডেকে নিলো তিতির।লজ্জায় বুদ হয়ে গেছে একদম।
নিঝুম লেপ্টে করেছে তিতিরকে দেয়ালের সাথে।চোখ বুজে আছে পিচ্চি মেয়েটা।সামন্য একটুতেই কেমন লজ্জা পেয়ে যায়।নিঝুমের একদম ভালোলাগে না এতো তিতির পাওয়া।ও কি তিতিরের পর নাকি?অত লজ্জা পাওয়ার কি আছে?
একটু বিরক্তির সুরে জিজ্ঞেস করলো নিঝুম,
—“এই মেয়ে আমার ঘরে এভাবে লুকিয়ে কি খুঁজছিলি হে?”
—“কই ছিলা তুমি।আমি যাবো তোমার সাথে আজ”
নিঝুম মনে মনে বেশ খুশিই হলো।একটু ভাব নিয়ে বলল,
—“ইশ।যাবি মানে কই যাবি?আমার সাথে তোরে কেন নিবো?”
—“কারণ আমি তোমার ভবিষৎ বউ তাই”
খুব সহজ কন্ঠে কথাটা বলে ফেলল তিতির।ফিক করে হেসে ফের বলল,
—“তোমার মতো বদমাইশ ছেলে অন্য কোনো মাইয়ার লগে লাইন মারেনি দেখতে হইবো না?”
তিতিরের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো নিঝুম।বলে কি এই পিচ্চিতে?ওর মতো ছেলে নাকি অন্য মেয়ের সাথে মারবে লাইন!
ব্যস্ত হয়ে নিঝুম বলল,
—“ওই পিচ্চি তুই দেখছিস আমারে আর অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাইতে কোনো দিন?খালি এক তোরে দেখলেই মাথা-টাথা ঠিক থাকে না আমার।”
এর আগ পর্যন্ত তিতির যাও ঠিক ছিল এবার তো পুরোই মাটিতে তলিয়ে যেতে মনটায় চাইছে ওর।
নিঝুমকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে নিঝুমের ঘর থেকে বের হয়ে গেলো তিতির।নিঝুম তো পুরোই তাজ্জব বনে গেলো।এমন কেন মেয়েটা।ধরার আগেই পালিয়ে যায়?না জানি ওর বিয়ে পর কপালে কি লিখা আছে।
.
নিঝুম তিতিরের মামাতো ভাই। পুরো নাম ইদ্রাবীর রিজভী নিঝুম। বিমানবাহিনীতে নতুন যোগদান করেছে।মাত্র পাঁচ দিন আগেই ট্রেনিং শেষ হয়েছে।এখনো রেঙ্ক দেয়া হয়নি।
সতের দিন বাদে প্রোগ্রামে দেশের প্রধান মন্ত্রী এসে নিজ হাতে অস্ত্র দিবেন তাদের হাতে সাথে রেঙ্ক।
Pilot Officer হিসাবে যাত্রা শুরু হবে নিঝুমের।
.
আর তিতির সবে মাত্র এইচ.এস.সি. পরীক্ষা দিলো। পুরো নাম জেহরাতুল তিতির।বেশ চঞ্চল ধরনের মেয়ে তিতির।খুব সামান্য কিছুতেই তার লজ্জার শেষ নেই।বোকা সোকা প্রকৃতির।দেহের রং শ্যামলা হলেও অত্যন্ত মায়াবী চেহারার অধিকারিনী তিতির।
বাবার মৃত্যুর পর মা তার পুরনো প্রেমিক রাইবুর হোসাইলকে বিয়ে করে নেয়।
‘মা’।শব্দটার হয়ত সবার কাছে গভীর অর্থ আছে।ভালোবাসা মিশ্রিত অর্থ।কিন্তু তিতিরের কাছে তা হাস্যকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *