Saturday , September 19 2020
Home / গল্প / ভালবাসার গল্প / নুপুরের বাচ্চা নিচে নাম, ঠিক করে বয়।(তোরই_জন্য) | পর্ব ১
নুপুরের বাচ্চা নিচে নাম, ঠিক করে বয়।(তোরই_জন্য) পর্ব ১

নুপুরের বাচ্চা নিচে নাম, ঠিক করে বয়।(তোরই_জন্য) | পর্ব ১

“নুপুরের বাচ্চা নিচে নাম, ঠিক করে বয়।

নুপুরের বাচ্চা নিচে নাম, ঠিক করে বয়।(তোরই_জন্য) পর্ব ১

তোরে দেইখা আমার কলিজায় পানি শুকায় গেছে।”
“জানেমান এ বাতাসের তীব্র বেগ না অনুভব করলে কি হয়?”
নুপুর খোলা জিপ গাড়িয়ের পিছনের সিটের উপর দাঁড়িয়ে দুইহাত মেলে রেখেছে। তার এক হাতে স্কার্ফ থলথলে উড়ছে। মিষ্টি বাতাসের ঘ্রাণ গভীর নিশ্বাস নিয়ে গ্রহণ করছে। সামিরা তো ওকে দেখে ভয়েই শেষ।

নিলয় গাড়ি চালাতে চালাতে বললো,

“আমি ভয়ে মরতাসি আর তুই ইনজয় করতাসোস। ভাইয়ার জিপ চুরি কইরা তো নিয়া আসছি তুই জানোস আমি বাসায় গেলে আমারে কুরবানী দেওয়া হইব। ভাইয়া আমারে জবাই দিব।”

নুপুর একই অবস্থায় থেকে চোখ খুলে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ধুর ফ্রেন্ডের জন্য একটু মরতেও পারবি না! হাদারাম।”
“তোরে না কইসি এসব আমারে কবি না। তুই হাদারাম তোর চোদ্দগুষ্টি হা….”

নুপুর হাত সোজা করে আঙুল দেখিয়ে বলল,

“ওই চোদ্দগুষ্টি কি’রে? আরেকটা কথা কইলে এখান থেকে উঠায় ফালায় দিমু নিচে।”
“ঠিকাছে কইলাম না। কিন্তু আমাদের তো বাসে যাওয়ার প্লান ছিলো তাই না? বাসের সব টিকিট টুকেট কাটা শেষ আর তুই বাসস্ট্যান্ডে শুরু করলি জিপে যাবি। এ কেমন কথা?”

সামিরা কথার উপর কথা রেখে বললো,

“আরও কেমনে, বাসস্ট্যান্ডের দরজার সিঁড়িতে বসে ঢঙের কান্নাকাটি করে, দ্যাটস সো ইম্বেরেসিং। মনে হইতাসিলো ওরে তুইলা নিয়া আসছি।”
“তুলে তো আমারে নিয়ে আসছিস তোরা। বাসায় বলতে হইসে নুপুরের এক্সিডেন্ট হইছে। যে আমি সারাজীবন মিথ্যা কথা বলি না তোদের চক্করে পরে এ দুইবছর মিথ্যায় কাটাইতিসি।”

এতোক্ষণে নীলাদ্রি মুখ খুললো। তার মুখে ভয়, রাগ ও অপরাধবোধের ছাপ। নুপুর নীলাদ্রির দিকে চোখ টিপ মেরে বললো,
“সুইটহার্ট এতোবছর জীবন মানেই তো বুঝতি না। জীবনটা ইনজয়ই তো করলি না। এখন তোকে লাইফ ইনজয় করাচ্ছি। নাইলে তুই যে মেয়ে দুইদিন পর বিয়া দিলে জামাই আর বাচ্চা নিয়া সংসার কইরাই কুল পাবি না।”
“হইসে তোর লাইফ ইনজয়! তোর জন্যই একদিন আমি মরমু পাক্কা।”

নুপুর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আবারও দুই দিকে দুইহাত মেললো। আর তার স্কার্ফ হাত থেকে ছুটে বাতাসের বেগে উড়ে গেল। সামিরা বললো,
“হায় হায় এ কি করলি। পিছনের কোনো গাড়ির কাঁচে যদি তোর স্কার্ফ আটকে এক্সিডেন্ট হয়।”

নুপুর বসতে বসতে বললো,

“জীবনে ভালো কিছু ভাব মা। এমনও হতে পারে। আমার স্বপ্নের রাজকুমারের মুখে যেয়ে লাগবে স্কার্ফটা আর সে স্কার্ফের….”
“খেয়ালি পোলাও পাকানো বন্ধন কর। যদি কোনো গুন্ডা হয় তখন? ”
“ওই বেডার চোখ তুইলা লুডু খেলমু তাইলে।”

সামিরা কপালে হাত দিলো। নুপুর বিড়বিড় করে বললো,
“যা স্কার্ফ নিয়া এতো সুন্দর রোমান্টিক ফিল্মের মতো সিন করতাসিলাম। আন্ডা মন মানুষিকতা নষ্ট হইয়া গেল।”

আয়ান যেমন তেমন করে ব্রেক লাগালো। হেলমেট থেকে স্কার্ফ সরিয়ে হেলমেটটা খুললো। স্কার্ফটার দিকে একবার তাকিয়ে তার বাইকের উপর স্কার্ফটা রেখে নিজে নিচে নামলো। ব্যাগ থেকে একবোতল পানি নিয়ে মুখ ধুলো।

আর ওদিকে রিহান বলছিলো,
“আর একটু হলেই এক্সিডেন্টটা করতাম। কোন পাগল এমন স্কার্ফ বাতাসে ছাড়ে!”

আয়ান উওর দিলো না। সে তার ব্লাক ব্লেজারের চেইন খুলে হাতের গ্লাভস খুললো। পানির বোতল মাথার উপরে নিয়ে মুখ উপুড় করলো। পানি ঢাললো আর মাথা ঝাঁকালো। বোতলের পানি শেষ হলে হাত দিয়ে মাথা ঝারলো। তার চুল, কপাল, গাল, ঠোঁট সম্পূর্ণ মুখে বিন্দু বিন্দু পানি মুক্তোর মতো জমে আছে।

কক্সবাজারে এসে নামলো নুপুররা। নুপুর জিপ থেকে নেমে আড়মোড়া ভেঙে আবারও যেয়ে ড্রাইভিং সিটে পা দুলিয়ে বসে নিলয়কে আদেশের ভঙ্গিতে বললো,
“ব্যাগ হোটেলে নিয়া রাখ আমি আসি।”
“আমি তোর চাকর লাগি? নিজের কাম নিজে কর।”

নুপুর চোখ রাঙিয়ে বললো,
“যদি না করসোস তাইলে তোর গার্লফ্রেন্ডরে ফোন দিয়ে কমু তুই মাইয়াগো সাথে কক্সবাজার আইসোস।”
“তো কি? তোদের নিয়ে ওই জেলাস ফিল করে না।”

নুপুর ভেংচি কেটে বললো,
“বলমু আমরা আলাদা আইসি। তুই আলাদা অন্য মেয়েগো সাথে আইসোস। আরও সেম রুম। বাচ্চু তাইলে তো তুমি শেষ। একদিকে তোমার ভাই অন্যদিকে গার্লফ্রেন্ড। কে আগে খুন করব কনফিউজড হইয়া যাবি।”
“তুই….. উফফ তোর সাথে কথা বলাটা পাথরে মাথা মারা।”

নিলয় তার আর নুপুরের ব্যাগ নিয়ে গেল হোটেলে। সামিরা আর নীলাদ্রি নিজ নিজ ব্যাগ নিয়ে গেল। রাত হতে এসেছে। তবুও নুপুর গেল সমুদ্র সৈকতে। পানিতে নামার চিন্তা আগ থেকে না থাকলেও সমুদ্রের উথাল-পাথাল ঢেউ দেখে নিজেকে থামাতে পারলো না। বিশাল চাঁদ যেন আকাশে রঙ তুলিতে এঁকে রেখেছে। নুপুর তার লং টপের উপর দিয়ে জিন্সের পকেটে হাত ডুকালো। মনে হচ্ছে চাঁদটা তার কাছে। ভীষণ কাছে। চাঁদের এ জোছনায় সে বরাবরই মুগ্ধ। আরেকটু সামনে যেতেই দেখলো চাঁদ আরেকটু কাছে আসছে তার। আরেকটু আর আরেকটু। সে পানির গভীরে যাচ্ছে। ভাবলো আর যাবে না। এখানে দাঁড়িয়ে একটু সৌন্দর্য উপভোগ করে যাক। কাপড় একটু ভিজলেই বা কি। হোটেল কাছে পাল্টানো যাবে। কিন্তু এ সৌন্দর্য আর উপভোগ করতে না পারলে! এ নিস্তব্ধতা ভরা রাতের সৌন্দর্যে সে হারিয়েই গেল। নিরবতার মাঝে ঢেউয়ের শব্দ তার কানে লাগছে। কোমড় পর্যন্ত পানি। হঠাৎ বিশাল এক ঢেউ এলো আর সে ভারসাম্যতা হারিয়ে পা পিছলে গেল। আর সে ডুবে গেল। নুপুর কখনো সাঁতার কাটতে জানতো না। সে হাত পা নাড়াতে শুরু করলো। যত উপরে উঠার চেষ্টা করে তত যেন ডুবে যায়। তার নাকে মুখে পানি ডুকে গেছে।

সমুদ্র পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে আয়ান। তার সকল বন্ধুরা আরাম করছে হোটেলে। সে ব্যাগ রুমে রেখেই সমুদ্রের ধারে এসে পরলো। তার বন্ধুরা নিশ্চিই এ মূহুর্তে চিল্লাচিল্লি করবে। তার এসব চিল্লাফাল্লা পছন্দ না। তার পছন্দ নিরবতা। আর এ রাতের আঁধার হতে শান্তিপূর্ণ জায়গা আর হয় না। চোখ গেল সসমুদ্রের মাঝে দাঁড়ানো এক কন্যার উপর। আশ্চর্য নিয়ে তাকিয়ে আছে আয়ান! এতো রাতে কেউ সমুদ্রের মাঝে যায়! বাতাসের থরথর করে তার কেশ উড়ছে। চাঁদের আলোয় তার উপর সাদা মুক্তোর ন্যায় আলো বিরাজ করেছে। হঠাৎ এক প্রকান্ড ঢেউ আসলো। মেয়েটি নেই হয়ে গেল। আয়ান সাথে সাথে চমকে গেল। দেখা গেল দু’হাত। মূহুর্ত অপেক্ষা না করে আয়ান ঝাপ দিলো পানিতে। খানিক সময়ে পৌঁছে গেল মেয়েটির কাছে। কাছে টেনে নিলো। বাহুতে জড়িয়ে টেনে আনলো। অল্প পানিতে আসার পর কোলে তুলে নিলো। মেয়েটি সে মূহুর্তে হাল্কা হাল্কা চোখ খুলছিলো। ঠিক মতো তাকাতেও পারছিলো না। কাশছিলো নিয়মিত। আয়ান মেয়েটির দিকে তাকালো। সাদা মুখটা লাল হয়ে আসছে। হঠাৎ করে মেয়ে একহাত দিয়ে গলা জড়িয়ে বুকে মাথা লুকিয়ে কাশতে শুরু করলো। আয়ানের শিহরণ চরম সীমায় ছিলো। এ প্রথম কোনো মেয়েকে এতো কাছে টেনেছে। খানিকটা বিরক্তও লাগলো একই সময়। আয়ান যেয়ে মেয়েটিকে রাখলো ছাতা সম্বলিত চেয়ারে। সে কিটকটে রাখার পর কয়জন দৌড়ে এলো। তারা এতোক্ষণ সমুদ্রের পাশেই ছিলেন। মেয়েটি ডুবছে। একটা ছেলে বাঁচাচ্ছে এমন রোমাঞ্চকর দৃশ্য মিস করে কিভাবে? মেয়েটি কাশতে কাশতেই ‘পানি’ ‘পানি করতে শুরু করলো। আয়ান দৌড়ে গেল পানি আনতে। এসে দেখলো মেয়েটি নেই। একজন থেকে জানতে পারলো মেয়েটিকে তার বন্ধুরা এসে নিয়ে গেছে।

থরথরে কাঁপছে নুপুর। মাথায় একটা তোয়েলা দেওয়া আর কাশছে একটানা। সামিরা আর নিলয় তো তাকে বকে শেষ।
“কে বলেছিলো এতোরাতে পানিতে নামতে? বেশি জ্বালা আমার সাথে আয় তোরে পানিতে চুবায় মারি।”
“আহা থাম না। এমন করিস কেন? মেয়েটা মাত্র এতোবড় দূর্ঘটনার স্বীকার হলো আর তোরা ওকে বকছিস!”

নীলাদ্রি নিলয়কে থামিয়ে নুপুরের জন্য ঔষধ নিয়ে এলো। আর একগ্লাস পানিসহ তাকে ঔষধ দিলো। নুপুর নীলাদ্রির গলা জড়িয়ে কান্নার ঢঙ করে বলল,
“আই লাবু বেবি। শুধু তুই-ই ভালো নাইলে সবাই আমারে বকে।”

সামিরা বিরক্তির স্বরে বললো,
“ধুর নীলা তুই চুপ কর তো। এ মেয়ের কানে গালে কয়টা দেওয়া উচিত। ওর কিছু হয়ে গেলে আমাদের কি হতো, ওর মা বাবার কি হতো? এসব ভাবে ও?”

বলতে বলতেই কান্না করে দিলো সামিরা। নুপুর বিছানার উঠে সামিরার পিছনে যেয়ে হাঁটু গেড়ে বিছানায় বসলো।

সামিরার গলা জড়িয়ে গালে গাল ঘেঁষে দুলে দুলে বললো,
“ডোন্ট ওয়ারি জানেমান নুপুরের এতো সহজে কিছু হবে না। আর যদি হয়েও যায় ভূত হয়ে সারাজীবন তোগো পিছে লাইগা থাকমু। সবগুলোর বাসরঘরে ভূত হয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে দেখমু। আহ কি মজা!”

নীলাদ্রি একটু সংকোচন হয়ে গেলে। আর বললো,
“ছিঃ ছিঃ এসব কি বলিস।”
“কি বলি? তোমার এতো লজ্জা পেয়ে লাভ নাই ভূত হয়ে তোর বাসরঘরেই আগে যামু।”
“আল্লাহ মাফ করুক। কোন প্রহরে তোর পালায় পরলাম।”
“আরে শুন আমার প্লানিং এই তোদের বাসররাত শেষ ওই তোদের ঘাড় মটকিয়ে ভূত বানায় ফেলমু আর আমরা পাঁচজন বট গাছের ভূত পেত্নী হয়ে সবাইরে ভয় দেখামু।”

সামিরা কপালে হাত দিয়ে বললো,
“আমার মনে হয় তোর মতো করে ফিউচার প্লান এ পৃথিবীতে কারও নেই।”

নুপুর বিছানায় হাত পা মেলে শুয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ধুর এতো ফিউচার ভেবে কি হবে। বর্তমানই সব। যে বর্তমান ছেড়ে ফিউচার ভেবে জীবন কাটায় তাদের জীবন শুধু কেটেই যায় তা উপভোগ করতে পারে না।”

“যে ফিউচার না ভাবে তার লাইফ যাস্ট ওয়েস্ট। আবর্জনা সমতুল্য। না জীবনে কিছু করতে পারে না হতে পারে। আর এ জীবনে কিছু না করলে জীবন শুধু মূল্যহীন। ওয়েস্ট।”
মোহন মুঠোভরা ভাত মুখে ডুকানোর আগে বললো,
“থাক ওয়েস্ট। আমার ওয়েস্ট লাইফই ভালো। যতদিন পেটে খাবার যাচ্ছে আমি ওয়েস্ট লাইফ ইনজয় করবো। ”
“ওই ভুক্কার প্লিজ থাম তোর এ গপাগপ খাবার দেখে আমার বমি আসতাসে।”
রিহান বললো ।

তাল মিলিয়ে বিজয় মোহনের পেটে গুতা দিয়ে বললো,
“সিরিয়াস দোস্ত তোর পেটে এতো খাবার যায় কই?”

আয়ান বললো,
“শুন সবাই আমাকে জোর করে নিয়ে এসেছিস ওকে। বাট যাস্ট তিনদিন থাকব। একদিনও বেশি না। আমার কোচিং সেন্টার বন্ধ করে আসা রঙের বিষয় না।”

রিহান বললো,
“তা তো ঠিক আছে বাট তুই ভিজে আসলি কেমনে রুমে। তা তো বললি না।”
“এমনিই পানিতে নামতে ইচ্ছা করছিলো তাই নামলাম।”
“এতো রাতে!”
“কেন রাতে পানিতে নামা যায় না?”
“যায়। যাবে না কেন? আচ্ছা আয় ঘুমাতে যায়। আই এম সো টায়ার্ড। বাইক চালিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসা কি কম ক্লান্তের না’কি!”

আয়ান পানি খেয়ে নিলো। আর তার চোখ পরলো তার জ্যাকেটের পাশেই সে স্কার্ফটির। হাতে নিলো সে স্কার্ফ। আর চোখের সামনে ভেসে উঠলো পানির সে মেয়েটি। হঠাৎ করে হাসলো আয়ান। ইতিমধ্যে লাইট অফফ করা হয়েছে। আয়ান স্কার্ফটা নিয়ে বারিন্দায় গেল। সে চাঁদের মিটিমিটি জোছনায় একবার স্কার্ফটির দিকে তাকিয়ে রেলিংয়ে হাত ঠেকালো। আর মাথা উপুড় করে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো। তাকিয়েই রইলো। সে রাতের স্নিগ্ধ বাতাসে আয়ানের হাতে থলথল স্কার্ফটি উড়ছে।

নুপুর পরোটা দিয়ে ভাজি দিয়ে খাচ্ছিলো এমন সময় চোখ পরলো দুইসারি ছেড়ে টেবিলে বসা এক ছেলের উপর। সাদা শার্ট পরা। শার্টের হাতা ভাঁজ করা কনুই পর্যন্ত। হাতে এক ব্লাক কালার ঘড়ি। নুপুর খাবার চিবাতে চিবাতে অতি খেয়াল করে তাকে দেখতে শুরু করলো। ছেলেটাকে চেনা চেনা লাগছে। অথচ ঠিক ধরতে পারছে না ছেলেটাকে কোথায় দেখেছে। দেখতে দেখতে তার চোখ গেল পাশের চেয়ারে রাখা ব্লাক জ্যাকেট আর তার স্কার্ফের উপর। নুপুর কিছু না বলেই উঠে পরলো। তার বন্ধুরা দেখেও কিছু বললো না। কেননা সামনের ফ্রিজে কাস্টার্ড, দই আর আইস্ক্রিম, কোক রাখা। আর নুপুরের মিষ্টি খাবার দেখে তর সয় না। ভেবেই নিলো কাস্টার্ড বা দই নিয়ে আসতে যাচ্ছে। কিন্তু আচমকায় নুপুরের চিল্লানোর আওয়াজ শুনার গেল।
“ওই ব্যাটা তোর সাহস কম না তুই আমার স্কার্ফ চুরি করস। যার তার স্কার্ফ ভাবছোস। নুপুরের স্কার্ফ তোরে বট গাছে সাথে উল্টা লটকায়া ফালামু। তুই চিনোস আমারে।”

আয়ান দেখল এক মেয়ে এসে চিল্লাফাল্লা করছে। সে এক হলুদের উপর গোলাপি, খয়েরী আর নীল ফ্লাউয়ার প্রিন্টেড স্কার্ট উপরে ব্লাক রঙের গেঞ্জি ও তার উপর এক গোলাপি রঙের লঙ কুর্তি পরা। মেয়েটাকে দেখে চেনা চেনা লাগলো। তারপর মনে পরলো এ মেয়েটিকেই সে গতরাতে বাঁচিয়েছিলো। কিন্তু মেয়েটা কি নিয়ে চিল্লাচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না। সে দাঁড়িয়ে ভদ্রতার সাথে জিজ্ঞেস করলো,
“সরি আপনি কি বলছেন বুঝতে পারছি না।”
“বয়রা না’কি রে। আমার স্কার্ফ দেয় বলতাসি চোর কোনহাকার।”
রিহান, মোহন ও বিজয় অবাক হয়ে এতোক্ষণ তাকিয়ে ছিলো। রিহান আর বিজয় উঠে দাঁড়ালো। রিহান বললো,
“ওয়াট ননন্সেন্স! আপনি কে? আর এভাবে চিল্লানোর মানে কি?”

মোহন তখনও গপাগপ খাচ্ছে। এদিকে নুপুরের ফ্রেন্ডরা এসে হাজির হলো। নুপুরকে সামলানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে শুরু করলো। কে শুনে কার কথা। সামিরা জিজ্ঞেস করলো,
“কি হয়েছে নুপুর? সবাই তাকিয়ে আছে এমন চিল্লাচ্ছিস কেন?”
“আমি চিল্লাইতাসি কেন, এ ব্যাটা চুরি করসে।”

নুপুর আবারও আয়ানের দিকে তাকালো। আয়ানকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে তার মুখের সামনে আঙুল নিয়ে চুটকি বাজিয়ে বললো,
“হে মিস্টার একতো চুরি এর উপর সিনাজুরি। আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে ছিলি কেন? সুন্দর মেয়ে দেখলে তর সয় না, না?”

আয়ানের এবার রাগ মাথায় চরে উঠলো
“সুন্দর! কে সুন্দর? বাসায় কি আয়না নেই, নিজের চেহেরা দেখসো? বট গাছ বলছ না, সে বট গাছের পেত্নীর মতো লাগে।”
“আমার তুই পেত্নী বলসোস। তুই একটা গদ্ধব, হুতুম পেঁচা,
সাদা বান্দর, শাঁকচুন্না, কট ….।”

মাঝখানে বাঁধা দিলো মোহন। খাবার বন্ধন করে জিজ্ঞেস করলো,
“প্লিজ ওয়ান কোয়েশ্চন, শাঁকচুন্না জিনিসটা কি?”
“শাঁকচুন্নির মেইল ভার্সন।”
“ওহ প্লিজ কন্টিনিউ।”
মোহন আবার খাবারে ধ্রান দিলো।

নুপুর আয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“হ্যাঁ তো কই ছিলাম?”
“এই ডিলা স্ক্রু। বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলে জানো না। তোমার থেকে তো আমার দুইবছরে ভাগ্নি ভালোভাবে কথা জানে।”
“তাই না?”

নুপুর আশেপাশে তাকিয়ে আয়ানের ভাজির প্লেট ওর দিকে ছুড়ে মারলো। আর কি, সব ভাজিতে ওর সাদা শার্টে ভরে গেল। রিহান কিছু বলতে যাবে আর নুপুর বলে উঠলো,
“আর কেউ কিছু বললে ডাইরেক্ট প্লেট ফিক্কা মাইরা মাথা ফাঠামু। এনিতেই মাথার বল্লাফল্লা হয়া গেছে।”

কেউ কিছু বললো না। আয়ান তাকাতেই রিহান আর বিজয় আশেপাশে তাকাতে শুরু করলো। যেন কিছুই জানে না। নুপুর আবারও চিল্লিয়ে উঠলো,
” ওই সাদা হলুদ বান্দর আমার স্কার্ফ দেয়। চুরি কইরা এহন তেজ দেহাস।”

সামিরা নীলাদ্রিকে সরিয়ে নুপুরের কাছে যেয়ে বলল,
“তোর স্কার্ফ কাল হাওয়াতে উড়ে গেছিলো, মনে কর।”

নুপুরের মনে আসতেই সে চুপসে গেল। অবাক হয়ে সামিরার দিকে তাকিয়ে আবার আয়ান, রিহান আর বিজয়ের দিকে তাকিয়ে জোর করে হাসার চেষ্টা করলো। বাঘিনী যেন মূহুর্তে ইঁদুর হয়ে গেল। টুকটুক করে আয়ানের ওপাশে যেয়ে স্কার্ফটা নিয়ে আবার আগের জায়গায় এসে বললো,
“সরি, ভুলে মিস্টেক হয়ে গেছে। টাটা।”
যেতেই নিলেই আয়ান বললো,
“এই ফাজিল মেয়ে কথা….”

নুপুর ফিরে আবারও আগের রূপ নিয়ে বললো,
“দেখেন মাফ চাইছি বলে এই না মাথায় উঠে নাচবেন। আর একটা কথা কইলে আশেপাশে যা আছে সব উঠিয়া উঠাইয়া মারমু। চিনেন আমারে? নুপুর নাম আর চেহেরা মনে রাখেন। কোনো পাঙ্গা নিতে আসবেন না। বহুত ভারী পরবে।”
বলেই নুপুর ভেংচি কেটে তার স্কার্ফ চুলে বাঁধলো। আর চুল ছিটকে ফিরে তাকালো। আর সে চুলগুলো আয়ানের মুখ ছুঁয়ে গেল। আর তীব্র এক ঘ্রাণ তার নিশ্বাসের সাথে মিশে গেল। আয়ান মেয়েটার যাওয়ার সময়ও মেয়েটার দিকে তাকিয়েই রইলো।

রিহান এসে বললো,
“কি ডেঞ্জারাস মেয়েরে বাপ! এর থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
আয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“ডেঞ্জারাস না পাগল। আর এসব পাগলদের ট্রিটমেন্ট আয়ান ভালো করেই জানে। আয়ানের সামনে কেউ উঁচু গলায় কথা বলার সাহস পায় নি আর এ মেয়ে আমাকে সবার সামনে ইনসাল্ট করে গেল। ওর ইনসাল্ট যদি ওকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমার শান্তি নেই।”

চলবে…..

[দয়া করে ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।]

About haxor3

One comment

  1. Like!! Great article post.Really thank you! Really Cool.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *